সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
Logo

প্রযুক্তি সহায়ক জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা: প্রতিরোধ ও করণীয় বিষয় নাগরিক সংলাপ

/ ১০৪ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত এবং প্রতিটি জেলায় সাইবার ক্রাইম আদালত সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সোমবার বিকেলে বরিশালের বিডিএস মিলনায়তনে ‘প্রযুক্তির সহায়তায় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা নিরসনে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বক্তারা এসব দাবি জানান।

‘আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নারী আন্দোলন শক্তিশালী করণ’ প্রকল্পের আওতায় এ সংলাপের আয়োজন করা হয়।

ম্যাপের নির্বাহী পরিচালক ও বরিশাল কোয়ালিশনের সদস্য শুভঙ্কর চক্রবর্তী লিখিত বক্তব্যে বলেন, নারীর প্রতি সাইবার অপরাধ অনেক ক্ষেত্রেই জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতাকে উসকে দেয়। ডিপফেক ভিডিও, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি ভুয়া ছবি ও ভিডিওসহ নতুন ধরনের অপরাধ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে।
সংলাপে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাইবার অপরাধ দমনে টাস্কফোর্স গঠন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ, ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা এবং পুলিশ ও বিচারসংশ্লিষ্টদের সংবেদনশীল ভূমিকার দাবি জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মেহেরুন নাহার মুন্নি, কোয়ালিশন টিমের সমন্বয়কারী নাসরিন জাহান পিউরি, প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মেহনাজ রহমান, শুভ’র নির্বাহী পরিচালক হাছিনা বেগম নিলাসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সভাপতিত্ব করেন মহিলা পরিষদের সভানেত্রী অধ্যাপক শাহ সাজেদা।

সভায় বলা হয়, সাইবার বুলিংয়ের ক্ষেত্রে ৮৮ শতাংশের কোনো প্রতিকার নেই। একটি পরিসংখ্যান উল্লেখ করি—২০২৫ সালে বিটিআরসি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ১,৩২৩টি কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ করে, যার মধ্যে ১,২২৩টি অপসারণ হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৯২.৪৪ শতাংশ। এর মধ্যে যৌনতা বিষয়ক কনটেন্ট প্রায় ৯০ শতাংশ এবং শিশুসংক্রান্ত কনটেন্ট প্রায় ৯৮ শতাংশ অপসারণ করা হয়েছে। এই চিত্র যেমন আশাব্যঞ্জক, তেমনি উদ্বেগজনকও। অনলাইনে সহিংসতার শিকার হওয়ার পর একজন নারী মানসিকভাবে যে আঘাতপ্রাপ্ত হন, তা সহজে সারে না। এ ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আরও জোরালো ব্যবস্থা নিতে হবে।

ফেক আইডির প্রসঙ্গটি গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষের একাধিক আইডি কেন থাকবে—এটি ভাবনার বিষয়। এটি পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হলেও সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ দরকার। কারন আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে—মানুষ এই আইন ও সুবিধাগুলো সম্পর্কে জানে না। সরকারি কাঠামো ও সংস্থা থাকলেও তথ্য সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। তাই সচেতনতা বাড়ানো এখন সবচেয়ে জরুরি।
সচেতনতা এখানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

এছাড়া মুক্ত আলোচনায় কিছু সুপারিশ মালা তুলে ধরা হয়। সুপারিশ গুলো হলো
প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলায় সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ জোরদার করা। সুস্পষ্ট নীতি, কার্যকর আইন প্রয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় নিশ্চিত করা।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি ও প্রতিকারব্যবস্থা শক্তিশালী করা। বিদ্যমান আইন–নীতিতে টিএফজিবিভিকে পৃথক ও স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা। প্রতিরোধ, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় অভিন্ন ধারণা প্রতিষ্ঠা করা।
ভুক্তভোগীদের জন্য নিরাপদ, সহজ ও দ্রুত অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলা।আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করা। ভুক্তভোগীকে দোষারোপ না করার সংস্কৃতি জোরদার করা।
সচেতনতা কার্যক্রমকে প্রকল্পনির্ভর না রেখে নিয়মিত কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর ও স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত প্রচার জোরদার করা। গণমাধ্যম ও কমিউনিটিকে সচেতনতা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা। সোশ্যাল মিডিয়া ও ইন্টারনেট সেবাদাতাদের দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা। ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ ও অভিযোগ নিষ্পত্তিতে জবাবদিহি বাড়ানো।
জাতীয় থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত সমন্বয় জোরদার করা। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা। আইসিটি ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ কমিটিতে টিএফজিবিভি অন্তর্ভুক্ত করা।
স্থানীয় পর্যায়ে ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ ও মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। অভিযোগ সহায়তা ও সচেতনতা কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com