বাউফল প্রতিনিধি ।।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ ঘিরে তর্কের জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত ও অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বুধবার সকাল ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে উপজেলার কালাইয়া লঞ্চঘাটের পূর্ব পাশে হাওলাদার বাড়ি এলাকায়।
নিহতের নাম রবিন হাওলাদার (৫৫)। তিনি থাকতেন হাওলাদার বাড়িতে।
আহত সদস্যরা হলেন— রবিনের স্ত্রী ঠাকুর রানী হাওলাদার (৪৫), তার বড় ছেলে হৃদয় হাওলাদার (২২) এবং ছেলে রনি হাওলাদার (২০)। অন্য পক্ষের আহতরা হলেন— আনন্দ ব্যাপারী (৫৫), কুসুম রানী (৪৫), প্রদীপ ব্যাপারী (২৭) এবং রতন ব্যাপারী (২৫)।
এসব তথ্য সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন বাউফল থানা পুলিশের ওসি সিরাজুল ইসলাম।
পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই জলাবদ্ধতা। পানি সরানোর জন্য একটি পাইপ স্থাপনের উদ্যোগ নেন রবিন হাওলাদার। এ কাজে প্রতিবেশীদের কাছে চান আর্থিক সহযোগিতা। তবে রতন ব্যাপারী টাকা দিতে না চাইলে গতকাল মঙ্গলবার দুই পরিবারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
এর জেরে বুধবার সকালে এলাকার পুকুরপাড়ে রবিন ও রতনের মধ্যে আবারও তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, রতন ব্যাপারীর নেতৃত্বে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে রবিন গুরুতর আহত হন।
পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত হৃদয়, ঠাকুর রানী ও রনিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানিয়েছেন এসব।
ওসি সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আনন্দ ব্যাপারী ও তার দুই ছেলেকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অন্য আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’