নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
অনিয়ম-বিশৃঙ্খল সহ অব্যাহত জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে বরিশাল মহানগরীতে সাধারন মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যে পথচলায় ক্রমশ সংকট তৈরী হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধলেও পরিস্থিতি উন্নয়নে এখনো নগর ভবনের পক্ষ থেকে তেমন কোন উদ্যোগ নেই। কিন্তু রিকশা, ইজিবাইক ও তিন চাকার স্কুটারের ভাড়া নিয়ে সাধারন যাত্রীদের সাথে প্রতিনিয়ত বচসা অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি উত্তরনে নগরীতে সিটি বাস সার্ভিস চালুর দাবীও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। সম্প্রতি কয়েক দফায় এলপি গ্যাসের মূল্য প্রায় দেড়গুন বৃদ্ধির পরে অতি সম্প্রতি বিদ্যুতের দামও আরেকদফা বাড়ান হয়েছে। আর জ্বালানীর মূল্য বৃদ্ধির বিরূপ প্রভাব পড়ছে বরিশালের পরিবহন সেক্টরেও। খোদ মহানগরীতে কোন কোন যানবাহনের ভাড়া প্রায় দ্বিগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এ বর্ধিত ভাড়া নিয়ে প্রতিদিনই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীদের সাথে বচসাও চলছে। ইজিবাইক, গ্যাসচালিত থ্রীহুইলার ও স্কুটারের ভাড়া বৃদ্ধির রেশ ধরে এ নগরীতে রিকশা ভাড়াও বেড়েছে গত একমাসে কয়েক দফায়। সম্বলিত একটি তালিকা প্রকাশের পরে নগর ভবন থেকে এর প্রতিবাদ করে অবিলম্বে ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করা হবে বলেও জানান হয়েছে।
কিন্তু এ নগরীতে যানবাহনের ভাড়া নিয়ে প্রতিদিনই নানা ধরনের বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ নগরভবন এখনো বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্ট ও তড়িত কোন পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারেনি।
পরিস্থিতি এমনই যে, ইতোপূর্বে নগরীর নবগ্রাম রোড-চৌমহনী থেকে স্টিমারঘটের ১৫ টাকার ভাড়া ২৫ টাকায় উন্নীত হয়েছে। নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে স্টিমার ঘাটের ভাড়াও মাথাপিছু ১৫ টাকা থেকে প্রথমে ২০ টাকা এবং এখন ২৫ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
ইজিবাইক এবং এলপিজিচালিত থ্রী-হুইলার ও স্কুটার মালিক-চালকদের বক্তব্য, মধ্যপাচ্য যুদ্ধের আগে প্রতি লিটার এলপি গ্যাসের দাম ছিল ৬০টার নিচে। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পরে তা কয়েক ধাপে ৯০ টাকায় ওঠার পরে এখন ৮৭ টাকার নিচে রয়েছে। ফলে তাদের পরিচালন ব্যায় বৃদ্ধির কারণেই যাত্রী ভাড়া না বাড়িয়ে কোন উপায় ছিল না। তবে, ৬০ টাকার এলপি গ্যাস ৯০ টাকা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ৮৭ টাকার নিচে নামলেও ১৫ টাকার ভাড়া ২৫ টাকায় উন্নীত হবার সঠিক কারণ বলতে পারেননি কেউ।
এমনকি একটি স্কুটার যেখানে ৪ জন যাত্রী নিয়ে চলাচল করে, সেখানে গ্যাসচালিত থ্রী-হুইলারগুলো ৭জন যাত্রী নিয়ে চলাচল করলেও তাদের যাত্রী ভাড়াও স্কুটারের প্রায় সমান। অপরদিকে হলুদ অটো বা ইজিবাইকগুলোতে আগে যেখানে ভাড়া ছিল ৫টাকা, সেখানে এখন ১০টাকার নিচে কোন ভাড়া নেই।
নগরবাসীর মনে প্রশ্ন উঠেছে, এ নগরীর পরিবহন ব্যবস্থা কাদের নিয়ন্ত্রনে। হলুদ অটো বা ইজি বাইকের লাইসেন্স দিয়ে থাকে সিটি করপোরেশন। অপরদিকে গ্যাসচালিত থ্রী-হুইলার ও স্কুটারের লাইসেন্স দিয়ে থাকে বিআরটিএ। তবে এ দুটি যানবাহন চলাচলের কেউই দেয় না। সরকারী এ দ্বৈত সিদ্ধান্তে অবৈধ যানবাহনেরই পোয়াবারো।
অপরদিকে এ নগরীতে প্রায় ২০ হাজার অবৈধ ব্যটারীচালিত রিকশা রয়েছে। যাদের কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থা নেই। সিটি করপোরেশন এসব অবৈধ রিকশার লাইসেন্স ইস্যু করে না। এসব রিকশা চালকদেরও কোন লাইসেন্স নেই। তাদের ভাড়ারও কোন তালিকা নেই। যে যার মত করে ভাড়া আদায় করে থাকেন। ফলে এ নগরবাসী দিন দিন অবৈধ যানবাহনের কাছেই জিম্মি হয়ে পড়ছে।
পরিস্থিতি উন্নয়নে সিটি করপোরেশনের তেমন কোন উদ্যোগও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। মূলত নগরীর পরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর কোন বিকল্প নেই বলে মনে করছেন দায়িত্বশীল মহল।