রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন
Logo

সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারকে প্রতিমন্ত্রীর সহায়তা

/ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিনিধি ।।

ঢাকার সদরঘাটে ঈদুল ফিতরের আগে সংঘটিত মর্মান্তিক লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহত বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চানপুর এলাকার সোহেল ফকিরের পরিবারের সদস্যদের মাঝে পাঁচ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান মেহেন্দিগঞ্জের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই আর্থিক সহায়তার চেক সোহেলের মা ও শাশুড়ির হাতে তুলে দিয়েছেন। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী নিহত সোহেলের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে পাঁচ লাখ টাকার অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী লঞ্চের মালিকপক্ষের কাছ থেকেও সোহেলের পরিবারের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সরকার রয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।

শনিবার সকালে প্রতিমন্ত্রী পাঁচ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সোহেলের শাশুড়ি সালমা বেগম। এছাড়া লঞ্চ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ঈদুল ফিতরের আগে ঢাকার সদরঘাটে সংঘটিত আলোচিত লঞ্চ দুর্ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারান সোহেল ফকির (২২)। একই ঘটনায় নিহত হন তার বাবা মিরাজ ফকির (৫০)। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রুবা ইসলাম। সেই মর্মান্তিক ঘটনার প্রায় তিন মাস পর, গত ৯ জুন সকালে বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকায় বাবার বাড়িতে রুবা ইসলাম একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন।

রুবার মা সালমা বেগম জানান, সোহেলের ইচ্ছা অনুযায়ী নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে রাইহান ইসলাম। নবজাতকের আগমনে পরিবারে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হলেও শোকের ছায়া এখনো কাটেনি। কারণ সন্তানের জন্মের আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন তার বাবা। যে সন্তানকে ঘিরে সোহেল ও রুবা ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনেছিলেন, সেই সন্তান আজ বাবার স্নেহবঞ্চিত অবস্থায় জীবন শুরু করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com