শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন
Logo

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে ওসমান হাদির বীরত্বগাথা

/ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

অনলাইন ডেক্স ।।

পাঠ্যবইয়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বীরত্বগাথা তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৮ সালের বইয়ে তার জীবন, কর্ম, শাহাদাত ও পরবর্তী ঘটনাগুলো তুলে ধরে পাঠ্য রাখা হবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কমিটির দুজন সদস্য জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ শীর্ষক দুটি প্রবন্ধের আলোকে নতুন পাঠ প্রস্তুত করা হবে।

তারা জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদিকে পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী- ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হওয়া নতুন শিক্ষাক্রমে তার বীরত্বগাথা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে পাঠ্য রাখা হবে।

সভা সূত্র জানায়, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ অধ্যায়ে তিতুমীর, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, নূর হোসেন, আবু সাঈদ ও মীর মুগ্ধকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, একই ধরনের বিন্যাসে শরিফ ওসমান বিন হাদিকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি)।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় শিক্ষাক্রম পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেয়। পরে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে পাঠ্যবইয়ে বিভিন্ন পরিমার্জন আনা হয়। এদিকে বিএনপি সরকার গঠনের পর ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

ঝালকাঠির নলছিটির সন্তান ওসমান হাদির বাবা মাদ্রাসা শিক্ষক। ওসমান হাদি নিজেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে পড়ালেখা করেন নেছারাবাদ কামিল মাদ্রাসায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এ শিক্ষার্থী বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

জুলাই অভ্যুত্থানে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। ৫ আগস্টের পর ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে আলোচনায় আসেন হাদি। ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চেয়েছিলেন তিনি। তার আগেই সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন তরুণ এ নেতা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com