স্পোর্টস ডেক্স ।।
এক যুগ আগে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে হয়েছিল ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। প্রায় ১৩ বছর পর এবার সেখানেই হবে ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের শুরু ও শেষের ম্যাচ।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচের পাশাপাশি ফাইনাল ম্যাচও হবে ঐতিহাসিক এই স্টেডিয়ামে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ৩২ দলের বিশ্বকাপের অগ্রিম সূচি প্রকাশ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা।
মারাকানায় আগামী ২৪ জুন ব্রাজিলের ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে টুর্নামেন্টের। দক্ষিণ আমেরিকার মাটিতে এটাই প্রথম নারী বিশ্বকাপ। প্রায় এক মাসের ফুটবলীয় লড়াইয়ের পর ২৫ জুলাই মারাকানায়ই হবে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই স্টেডিয়ামের সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসও জড়িয়ে আছে। ১৯৫০ সালের পুরুষ বিশ্বকাপের ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে ব্রাজিলের হৃদয়বিদারক হারের সাক্ষী ছিল মারাকানা।
এবার একই মাঠে নারী বিশ্বকাপের শুরু ও শেষ- দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে।
ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপের আট আয়োজক শহরের প্রতিটিতে অন্তত সাতটি করে ম্যাচ হবে। প্রতিটি শহরেই অন্তত একটি নকআউট ম্যাচ রাখা হয়েছে। ব্রাসিলিয়া, পোর্তো আলেগ্রে, রেসিফি ও সালভাদরে হবে শেষ ষোলো পর্যন্ত ম্যাচ।
এরপর কোয়ার্টার-ফাইনাল হবে বেলো হরিজন্তে, ফোর্তালেজা, রিও ডি জেনেইরো ও সাও পাওলোতে। সেমি-ফাইনালের আয়োজক রিও ডি জেনেইরো ও সাও পাওলো।
এই সূচি ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিরল এক রেকর্ডেরও অংশ হয়ে গেল মারাকানা। পুরুষ ও নারী- দুই ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজন করা মাত্র তৃতীয় স্টেডিয়াম হবে এটি। এর আগে সুইডেনের রাসুন্দা স্টেডিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্রের পাসাডেনার রোজ বোল এই কীর্তি গড়েছে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘ব্রাজিলিয়ান সমর্থকের আবেগ, রং ও উচ্ছ্বাসের কথা ভাবলেই রোমাঞ্চিত হচ্ছি।’ তার মতে, আটটি আয়োজক শহর নিজেদের বৈচিত্র্য দিয়ে বিশ্বকাপকে আনন্দময় ও স্মরণীয় করে তুলবে।
ব্রাজিলের সাবেক অধিনায়ক অ্যালিন পেলেগ্রিনোও মনে করেন, গ্যালারির উচ্ছ্বাস মাঠে ছড়িয়ে পড়বে। তার ভাষায়, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়েরা সমর্থকদের সেই শক্তি অনুভব করবেন ও মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে তা ফিরিয়ে দেবেন- যা বিশ্বজুড়ে সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে।
২০২৭ নারী বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি চলতি বছরের শেষ দিকে প্রকাশ করা হবে।