নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
বরিশাল সদর থানা মৎস্য আড়তদার এ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী ৪ জুলাই এ নির্বাচিত অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু ইতিমধ্যে হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতির কারণে অধিকাংশ প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বিষয়টি স্বীকার করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলছেন ‘ সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট নিয়ে তারাও এই মুহূর্তে শংকিত।
সহকারী নির্বাচন কমিশনার খাজা মো: ইকবাল জানান-১১টি পদের বিপরীতে মনোনয়ন পত্র বিক্রি হয়েছিলো ২০টি। এরমধ্যে ১৮ জুন রাত ১০টা পর্যন্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ ৮জন প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আর দুটি বাতিল হয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছিলেন কামাল সিকদার, জামাল হোসেন এবং খান কামাল। এদেরমধ্যে খান কামাল মহানগর মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি খান হাবিবের ছোট ভাই। বৃহস্পতিবার রাতে প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন কামাল সিকদার ও জামাল হোসেন। তাদের অভিযোগ প্রতিপক্ষের হুমকি-ধামকি পেয়ে নির্বাচনের বাইরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। একইভাবে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন শাহীন কলি। তিনি যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনয়ন পত্র কিনেছিলেন।
পোর্টরোডের সবচেয়ে প্রবীন ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ। দলমত নির্বিশেষে সবাই তাকে শ্রদ্ধা করেন ও ভালবাসেন। তিনি সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে- অসুস্থতা নয় অপর সভাপতি প্রার্থী জহির সিকদার এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী খান কামাল তাকে হুমকী-ধামকি দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সভাপতি প্রার্থী জহির সিকদার বলছেন-অনেক প্রার্থী তেমন একটা ভোট পাবেন না জেনে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেউ কেউ আবার আর্থিক সুবিধা নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ভয়ভীতি কিংবা হুমকির প্রশ্নই আসেনা।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বলছেন ৮ জনের বাইরে আরো অন্তত ৪ জন শুক্রবার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। এর বাইরে অনেকে যে পদে মনোনয়ন পত্র কিনেছেন সেই পদে জমা না দিয়ে কারচুপির মাধ্যমে অন্য পদে জমা দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন দেওয়া যাবে কিনা সে ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলছেন নির্বাচন কমিশনার সহ সংশ্লিষ্টরা।
বরিশালের সবচেয়ে বড় পাইকারী মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সদস্যরা বলছেন-ব্যবসায়ীক সংগঠন কোন দলের হতে পারে না। এখানে সবার নির্বাচন করার অধিকার আছে। যারা ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকতে পারবেন না জেনেই এমনটা করছেন। সব প্রার্থীকে বসিয়ে খোলা মাঠে গোল দেওয়ার চিন্তা বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে বড় ধরণের সংঘাত হতে পারে এমনটা মনে করেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।