স্পোর্টস ডেক্স ।।
ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল যে মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ঘাস তুলে টুকরো টুকরো করে বিক্রির ঘোষণা আগেই দেওয়া হয়েছিল। এবার বিশ্বকাপের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা ঐতিহাসিক স্মারককে উঠানো হচ্ছে নিলামে।
বিশ্বখ্যাত নিলাম প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টিজ ফিফা ও গ্লোবাল সিটিজেন-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ওয়ান গোল’ চ্যারিটি নিলামে রাখা হয়েছে ৪০টিরও বেশি বিশেষ সংগ্রহযোগ্য সামগ্রী।
এই নিলামের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো- এখানে রয়েছে লিওনেল মেসির স্বাক্ষর করা আর্জেন্টিনার জার্সি, বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্যবহৃত অফিসিয়াল বল, শাকিরার পারফরম্যান্সের পোশাক, ম্যাডোনার গ্লাভস এবং জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস-এর সদস্যদের ব্যবহৃত পোশাক।
আগামী ২৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই নিলাম। বিক্রি থেকে পাওয়া পুরো অর্থ ব্যয় করা হবে ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডে, যার লক্ষ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো।
সবচেয়ে দামী এখন ফুটবল নয়, জিমিনের পোশাক
চমকপ্রদ বিষয় হলো, নিলামের সবচেয়ে বেশি দর উঠেছে কোনো ফুটবলারের স্মারকে নয়। বিশ্বকাপ ফাইনালের বিরতিতে (হাফটাইম শো) পারফর্ম করা দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস-এর সদস্য জিমিনের পরা পোশাকটির বর্তমান দর উঠেছে ১৪ হাজার মার্কিন ডলার।
অন্যদিকে লিওনেল মেসির স্বাক্ষর করা আর্জেন্টিনার জার্সির জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তাব এসেছে ৬ হাজার ডলার। একই দর উঠেছে ফাইনালের সংগীতানুষ্ঠানে ম্যাডোনার ব্যবহৃত গ্লাভসের ক্ষেত্রেও। তবে নিলাম শেষ হওয়ার আগে এসব দামের আরও বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিলামে ফাইনালের অফিসিয়াল বল
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্যবহৃত অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা’। ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালে ব্যবহার করা হয়েছিল এই বল।
কালো ও সোনালি রঙের এই বলটি বিশ্বকাপ ট্রফি এবং আয়োজক শহরগুলোর নকশা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করা হয়। নিলামে এর প্রাথমিক মূল্য ধরা হয়েছিল ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। ক্রিস্টিজের মতে, বলটির সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য ৩০ থেকে ৪০ হাজার ডলারের মধ্যে হতে পারে।
এই বলের আরেকটি বিশেষত্ব হলো এতে ব্যবহৃত হয়েছে কানেক্টেড বল প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে ম্যাচ চলাকালে বলের প্রতিটি স্পর্শ ও গতিবিধির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) এর কাছে পৌঁছে যায়।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ফাইনালে বলটি প্রায় ৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড ব্যবহৃত হয়েছিল এবং ওই সময়ে খেলোয়াড়রা এটিকে ২৩৫ বার স্পর্শ করেছিলেন।
এছাড়া বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচগুলোতে ব্যবহৃত আরও কয়েকটি অফিসিয়াল বলও নিলামে রয়েছে। এর মধ্যে একটি বলে মেক্সিকোর ফুটবলার সান্তিয়াগো হিমেনেজের স্বাক্ষরও রয়েছে।
মেসির জার্সির কদর
বিশ্বকাপে ব্যবহৃত আর্জেন্টিনা দলের জার্সিতে লিওনেল মেসির স্বাক্ষর করা একটি সংগ্রহও রাখা হয়েছে নিলামে। সংগ্রাহকদের কাছে এটি সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ফুটবল স্মারকগুলোর একটি হলেও দর ওঠার দিক থেকে এটি জিমিনের পোশাকের অনেক পেছনে রয়েছে।
শাকিরার ঐতিহাসিক পোশাক
কলম্বিয়ান তারকা শাকিরা নিলামে দিয়েছেন বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম হাফটাইম শো-তে পরা নিজের পোশাক। ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রকাশিত তার গান ‘দাই দাই’ পরিবেশনের সময় এই পোশাকটি পরেছিলেন তিনি। একই পোশাক দেখা যায় গানটির অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিওতেও। কলম্বিয়ার জাতীয় দলের জার্সি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করা হয়েছিল পোশাকটির নকশা।
বিটিএস সদস্যদের আরও পোশাক
জিমিন ছাড়াও বিটিএস-এর অন্য সদস্যদের ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি পোশাকও নিলামে রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে-
ভি-এর ব্যবহৃত কালো সিল্কের স্কার্ফ।
সুগার লাল প্যান্ট ও স্কার্ফ।
জে-হোপের কালো গ্লাভস।
আরএম-এর কালো চামড়ার বুট।
জিনের লাল চামড়ার বেল্ট।
জাংকুকের মোটরসাইকেল জ্যাকেট।
ম্যাডোনার স্বাক্ষর করা গ্লাভস।
ফাইনালের সংগীতানুষ্ঠানে ব্যবহৃত ম্যাডোনার এক জোড়া বিশেষ গ্লাভসও রয়েছে নিলামে। এর একটি গ্লাভসে রুপালি কালি দিয়ে লেখা রয়েছে ‘লাভ ম্যাডোনা’, অন্যটিতে রয়েছে হৃদয়ের প্রতীক।
সোয়ারভস্কি ক্রিস্টাল দিয়ে সাজানো আঙুলবিহীন এই গ্লাভস তৈরি করেছেন ম্যাডোনার দীর্ঘদিনের স্টাইলিস্ট রিটা মেলসেন এবং কাস্টম ডিজাইনার লে রাইনস্টাড।
শিক্ষা তহবিলেই যাবে সব অর্থ
ফিফা ও গ্লোবাল সিটিজেন জানিয়েছে, নিলামে বিক্রি হওয়া প্রতিটি সামগ্রীর অর্থ ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডে জমা হবে। এই তহবিলের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করা হবে।
বিশ্বকাপের মাঠে ইতিহাস গড়া এই স্মারকগুলো তাই শুধু সংগ্রাহকদের আকর্ষণই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।