বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন
Logo

আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতীমকে হত্যা: পুলিশের সংবাদ সম্মেলন

/ ৭৯ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অনলাইন ডেক্স ।।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, অপ্রতীমের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন বনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মোবাইল ফোন নিতে বাধা দিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী দুজন। ১৮ বছরের বেশি বয়সী একজন হলেন সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯)। এ ছাড়া সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।

আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।

পুলিশ সুপার বলেন, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৮ সেপ্টেম্বর বেলা আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে তুহিন অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের দিকে যায়।

অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তুহিন অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করে তাকে ওই স্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলে জানান পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় আরও দুজনের জড়িত থাকার বিষয়টি জানা যায়। পরে অভিযান চালিয়ে একজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরেকজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপর তুহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন বনে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় অপ্রতীম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে আরও দুজন (অপ্রাপ্তবয়স্ক) বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মোবাইল ফোনটি নিয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, এ ঘটনায় সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই চলছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত পুলিশ প্রতিবেদন (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করা হবে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তুহিনের বয়স ১৯ বছর। তিনি সদর দক্ষিণ থানার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা (মৈশান বাড়ি) এলাকার নুরে আলম ও শিরিনা আক্তারের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অকৃতকার্য হওয়ার পর তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন। গ্রেপ্তার বাকি দুজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে।

এ ছাড়া আটক সিয়ামের বয়স ১৯ বছর। তিনি সদর দক্ষিণ থানার এলাহীপুর এলাকার সেলিম মিয়া ও শিরিনা আক্তারের ছেলে। তিনি কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার দৌলতপুর এলাকার আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইশতিয়াক হাসান আমীন, মো. জিয়াউর রহমান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুল আলম শাহসহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com