নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
নগরীর অন্যতম বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্র ‘ত্রিশ গোডাউন’ সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর তীর। যেখানে ঘুরতে আসা মানুষদের অন্যতম আকর্ষণ নৌকা বা ট্রলারে নদীর বুকে ভেসে বেড়ানো।
সেই সুযোগে ট্রলার এবং নৌকা থেকে চাঁদা আদায় করে আসছে একটি চক্র। এমন অভিযোগে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়ত উল্লাহ স্বপ্রণোদিত হয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে এই আদেশ দিয়েছেন।
আদেশে চাঁদাবাজির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয়, কতদিন থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ঘাটের ইজারা আছে কীনা সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদনও জমা দিতে বলা হয়েছে পুলিশকে।
আদালতের আদেশ থেকে জানাগেছে, চলতি বছরের গত ১০ জুলাই সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ত্রিশ গোডাউন এলাকায় কীর্তনখোলা নদীর তীরে সংশ্লিষ্টা আদালতের বিচারকের, নৌকা ও ট্রলারের মালিকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ (চাঁদা) আদায়ের একটি ঘটনা পরিলক্ষিত হয়। সে সময় গোপনে উক্ত ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়, যা পরবর্তীতে আদালতের নথিতে সংযুক্ত করা হয়েছে।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনাস্থলে একাধিক নৌকার মাঝিকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানান, ‘সাঈম’ নামের এক ব্যক্তি তার প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রতিদিন ত্রিশ গোডাউন এলাকার প্রত্যেক নৌকা ও ট্রলার থেকে ৫০ টাকা হারে অবৈধ চাঁদা আদায় করছেন।
একজন প্রবীণ মাঝি জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় নৌকা পরিচালনা করলেও পূর্বে কখনো এমন চাঁদা দিতে হয়নি। তবে গত এক-দেড় বছর ধরে তারা এই চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যান্য মাঝিরাও একই ধরণের হয়রানির অভিযোগ করেন।
আদেশে আদালত অভিমত ব্যক্ত করেন, ত্রিশ গোডাউন স্থানটি বরিশালের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র, যেখানে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীরা বেড়াতে আসেন। কীর্তনখোলা নদীতে নৌকাভ্রমণ পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। সেখানে মাঝিদের কাছ থেকে এভাবে চাঁদা আদায় করায় তারা যেমন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তেমনি পর্যটকদেরও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা একটি গুরুতর আইনের লঙ্ঘন এবং শাস্তিমূলক ফৌজদারি অপরাধ।
এমতাবস্থায়, জনস্বার্থ ও ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্যে দ-বিধির ৩৮৫ ধারা এবং আইন-শৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ৪ ও ৫ ধারার অপরাধের উপাদান বিদ্যমান থাকায় কোতয়ালী মডেল থানার একজন উপযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে এজাহারকারী করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সাথে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আগামী প্রতিবেদনে ৩টি বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে: উক্ত স্থানটি সরকারিভাবে কাউকে ইজারা প্রদান করা হয়েছে কি-না। কত দিন থেকে এবং কতজন মাঝির কাছ থেকে দৈনিক কত টাকা করে উত্তোলন করা হচ্ছে। উক্ত টাকা উত্তোলনের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারা জড়িত, তাদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা।
আদালতের এই কঠোর আদেশের অনুলিপি ইতিমিধ্যেই সদয় অবগতির জন্য বরিশাল মহানগর দায়রা জজ ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে আদালতের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় মাঝি, ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আদালতের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।