বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৪ অপরাহ্ন
Logo

গুমের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, নতুন আইনের খসড়া প্রকাশ

/ ৭৭ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

অনলাইন ডেক্স ।।

দেশে গুমের ঘটনা প্রতিরোধ এবং এ অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে ‘গুম নিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬’ শীর্ষক নতুন আইনের খসড়া প্রকাশ করেছে সরকার। প্রস্তাবিত আইনে গুমের কারণে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে বা পাঁচ বছরেও তার সন্ধান না মিললে দায়ী ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) জনমত ও অংশীজনদের মতামত গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আইনের খসড়াটি প্রকাশ করা হয়।

খসড়া আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য যদি কাউকে গ্রেফতার বা আটক করার পর বিষয়টি অস্বীকার করেন অথবা ওই ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি গোপন রাখেন, তবে তা ‘গুম’ হিসেবে গণ্য হবে। তবে ব্যাপক বা পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে বিচার্য হবে।

শাস্তির বিধান-

গুম: গুমের অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তি সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা কমপক্ষে ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

গুমের ফলে মৃত্যু হলে: যদি গুম হওয়া ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে বা ৫ বছরের মধ্যেও তাকে খুঁজে পাওয়া না যায়, তবে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এর পাশাপাশি কমপক্ষে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হবে।

গোপন আটক কেন্দ্র: তথাকথিত ‘আয়নাঘর’ বা কোনো অননুমোদিত গোপন আটক কেন্দ্র নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহার করলে কমপক্ষে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

প্রমাণ নষ্ট করা: গুমের সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট বা পরিবর্তন করলে কমপক্ষে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হবে।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়

আইনে ‘কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো শৃঙ্খলা-বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তার অধীনদের গুম করার আদেশ দেন বা জেনেও তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নেন, তবে তিনিও মূল অপরাধের সমপরিমাণ দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে গুমের সাফাই গাওয়ার কোনো সুযোগ এ আইনে রাখা হয়নি।

দ্রুত বিচার ও ক্ষতিপূরণ

গুমের মামলার বিচার হবে দায়রা জজ আদালতে এবং বিচার কার্য শুরু হওয়ার ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করতে হবে। প্রয়োজনে আদালত এই সময় আরও ৩০ দিন বৃদ্ধি করতে পারবে। বিচারে অপরাধী সাব্যস্ত হলে দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ভুক্তভোগীকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মিথ্যা মামলায় সাজা

অন্যদিকে, গুমের বিষয়ে কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন, তবে তার জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার গুম সংক্রান্ত একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষণ করবে, যেখানে নিখোঁজ হওয়ার তারিখ, স্থান এবং সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ থাকবে।

এই আইনটি কার্যকর হলে গুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com