বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন
Logo

গ্যাসের মজুত ২০৩১ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যেতে পারে: সিপিডি

/ ২০ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

অনলাইন ডেক্স ।।

বর্তমানে যে হারে গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে অবশিষ্ট গ্যাসের মজুত ২০৩১ সালের মধ্যে প্রায় নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইন মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনায় সিপিডির উপস্থাপনায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়। উপস্থাপনাটি করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ফখরুল আল কবির।

সিপিডির উপস্থাপনায় বলা হয়, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের তুলনায় পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। একই সময়ে শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আবাসিক খাতে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান দ্রুত বাড়ছে।

উপস্থাপনায় ছয় দশকের তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়, ২০৩১ সালের মধ্যে দেশে গ্যাসের মোট ব্যবহার প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে অবশিষ্ট গ্যাসের মজুত প্রায় নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমান হারে গ্যাস ব্যবহার অব্যাহত থাকলে ২০৩০-এর দশকের শুরুতেই মজুত সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এ পরিস্থিতিতে গ্যাস সংরক্ষণ ও দেশে নতুন গ্যাসের অনুসন্ধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

 

সিপিডি বলছে, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশ ক্রমেই আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। ২০১৮ সালে দেশে প্রথম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানি শুরু হয়। এরপর থেকে এলএনজি আমদানি বাড়লেও দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামা ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা বাড়ছে।

উপস্থাপনায় আরও বলা হয়, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতার ৪২ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক। এ ছাড়া কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের ওপরও উল্লেখযোগ্য নির্ভরতা রয়েছে। ফলে দেশীয় গ্যাসের ঘাটতি এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

সিপিডির উপস্থাপনায় ১১ আগস্টের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, পাঁচটি গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালন সক্ষমতার মাত্র ৫৭ শতাংশ ব্যবহার করা যাচ্ছিল। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট গ্যাস চাহিদার মাত্র ২৯ শতাংশ সরবরাহ করা হয়েছে। সার কারখানাগুলোও তাদের প্রয়োজনীয় গ্যাসের মাত্র ৩৮ শতাংশ পেয়েছে।

এই ঘাটতির কারণে গার্মেন্টস ও সার কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কমানো বা বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলে সিপিডির উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং কম আয়ের মানুষের ওপর জ্বালানি ব্যয়ের চাপ বাড়ছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের কথা বলেছে সিপিডি। স্বল্প মেয়াদে এলএনজি ক্রয়ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা, মূল্য নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থায় সংস্কার এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। মধ্য মেয়াদে এলএনজি টার্মিনাল ও সংরক্ষণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ, গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থায় বিনিয়োগ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারের কথা বলা হয়েছে।

ফখরুল আল কবির বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট শুধু সাময়িক কোনো সমস্যা নয়, এর পেছনে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাচ্ছে, নতুন বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধানও মিলছে না। একই সময়ে শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আবাসিক খাতে জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান ক্রমেই বড় হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঘাটতি পূরণে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামা ও সরবরাহ বিঘ্নের ঝুঁকি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ফলে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও বিকল্প জ্বালানির দিকে যেতে হবে।

ফখরুল আল কবির আরও বলেন, সংকট মোকাবিলায় শুধু তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে। স্বল্প মেয়াদে এলএনজি ক্রয়ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো ও সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। মধ্য মেয়াদে এলএনজি টার্মিনাল ও সংরক্ষণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানকে জাতীয় জরুরি অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা দরকার। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, কৌশলগত জ্বালানি মজুত গড়ে তোলা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com