ঝালকাঠি প্রতিনিধি ।।
ঝালকাঠির সদর উপজেলায় এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা, মারধর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে স্থানীয় বিএনপির এক নেতাসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দিবাগত রাতে ঝালকাঠি সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন সদর উপজেলার কালিআন্দার গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৬)। মামলায় আসামি করা হয়েছে নবগ্রাম ইউনিয়নের পরমহল গ্রামের শামসুল কাবির ওরফে তাপস তালুকদার (৫৪) এবং নজরুল ইসলাম তালুকদারকে (৫৯)। বাদীর দাবি, শামসুল কাবির ওরফে তাপস তালুকদার স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
থানা সূত্রে জানা যায়, দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩০৭, ৩২৩, ৩২৫, ৩৭৯ ও ৫০৬ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। মামলার নম্বর-১৯, তারিখ ২০ জুলাই ২০২৬।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৬ জুলাই পরমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে হুমকি ও অশোভন আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদ করায় আসামিরা বাদীর প্রতি ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুরে বাদীকে মুঠোফোনে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে নবগ্রাম ইউনিয়নের পরমহল এলাকার দিঘীরপাড় হাটে গেলে সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া আসামিরা এবং তাদের সঙ্গে থাকা আরও ৮ থেকে ১০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার সময় শামসুল কাবির ওরফে তাপস তালুকদার লোহার রড দিয়ে বাদীর মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করতে গিয়ে তার বাম হাতের কব্জি ভেঙে যায়। অপর আসামি নজরুল ইসলাম তালুকদার চাইনিজ ব্যাটন দিয়ে বাদীপক্ষের একজনকে আঘাত করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার একপর্যায়ে বাদীর কাছ থেকে নগদ ২৫ হাজার ৫৭৫ টাকা এবং প্রায় ১৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি টাইটান ব্র্যান্ডের হাতঘড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে আহতদের স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ২০ জুলাই রাতে থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলায় মেহেদী হাসান রাজীব, রেজাউল বেপারী, হেলাল উদ্দিন ফকির, মিজান খান ও মো. ফোরকান তালুকদারসহ কয়েকজনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
তবে মামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দ্বিতীয় আসামি নজরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে করা মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পরমহল এলাকায় গিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বললেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানা যাবে। আমি আজ ঝালকাঠি আদালত থেকে জামিন নিয়ে বাড়ি ফিরছি। এ বিষয়ে এর বেশি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”
অন্যদিকে, মামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রথম আসামি শামসুল কাবির ওরফে তাপস তালুকদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।