স্পোর্টস ডেক্স ।।
২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল কোন স্টেডিয়ামে হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। স্পেনের ঐতিহ্যবাহী সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ও ক্যাম্প ন্যুর পাশাপাশি এখন জোরালোভাবে উঠে এসেছে মরক্কোর নির্মাণাধীন গ্র্যান্ড হাসান স্টেডিয়ামের নাম। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি, তবে আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে এ নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। ঐতিহ্য, অবকাঠামো ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে শুরু থেকেই ফাইনালের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে এগিয়ে ছিল রিয়াল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু এবং বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু। তবে মরক্কো নতুন করে সমীকরণ বদলে দিতে চাইছে নির্মাণাধীন ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার হাসান স্টেডিয়ামকে সামনে রেখে।
মরক্কোর এই স্টেডিয়ামটি নির্মিত হচ্ছে বেনসলিমানেতে। এর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে দেশটির সরকার জানায়, স্টেডিয়াম নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫,৯০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি ট্যাঙ্গিয়ার, কাসাব্লাঙ্কা, রাবাত, আগাদির, মারাকেশ ও ফেজের স্টেডিয়ামগুলোকে ফিফার মানে উন্নীত করতে ৬০০০ কোটি টাকার ওপরে খরচ হবে।
বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের দৌড়ে রিয়াল মাদ্রিদের বড় শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে। চলতি বছরের জুনে তিনি আবারও সভাপতি নির্বাচিত হন। ফিফার সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে ২০২৫ ক্লাব বিশ্বকাপ নিয়ে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর আপত্তি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি, যা ফিফার জন্য ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।
তবে নেপথ্যে একটি সমঝোতার কথাও শোনা যাচ্ছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বকাপের ফাইনাল হতে পারে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে, আর একটি সেমিফাইনাল হতে পারে মরক্কোর হাসান স্টেডিয়ামে। এর বিনিময়ে ২০২৯ ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পেতে পারে মরক্কো। প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো।
অন্যদিকে, স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, মরক্কোকে ফাইনাল আয়োজনের সুযোগ করে দিতে জোরালো লবিং চলছে। একই সঙ্গে স্পেনের পক্ষ থেকে ফাইনালের আয়োজক হওয়ার দাবিতে এখন পর্যন্ত তেমন শক্ত অবস্থান না নেওয়ায় ফিফাও বিস্মিত বলে আলোচনা রয়েছে।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনালে ওঠার পর থেকেই অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ শুরু করেছে মরক্কো। স্টেডিয়াম উন্নয়নেই দেশটি ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনেও নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে তারা। ২০২৩ সালে ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজন করে মরক্কো, যেখানে চ্যাম্পিয়ন হয় রিয়াল মাদ্রিদ।
স্পেনও অবশ্য পিছিয়ে নেই। ২০২৩ সালে মোটা টাকা খরচ করে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর আধুনিকায়ন সম্পন্ন করেছে রিয়াল। বর্তমানে স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা ৮৪ হাজার। অন্যদিকে সংস্কার শেষ হলে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুতে একসঙ্গে ১ লাখ ৫ হাজার দর্শক বসতে পারবেন।
এরই মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মাদ্রিদভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মার্কা দাবি করেছিল, ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতেই হবে এবং এ বিষয়ে পর্তুগাল ও মরক্কোরও সম্মতি রয়েছে। তবে ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফাইনালের ভেন্যু ঘোষণা করেনি। ফলে বিশ্বকাপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত স্পেনে হবে, নাকি মরক্কোর নতুন সুপারস্টেডিয়ামে—সেই উত্তর জানতে অপেক্ষা করতেই হবে।