পিরোজপুর প্রতিনিধি ।।
পিরোজপুরের নেছারাবাদে বিয়ে ও ধর্ম পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করা এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির লাইনম্যান সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী (হিন্দু)।
রোববার (২ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী নারী চায়ের দোকানি নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।
অভিযুক্ত মো. সাইদুল ইসলাম সিরাজ উপজেলার করফা বাজার পল্লীবিদ্যুৎ সাব-অফিসের লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাদী করফা বাজারে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন। দোকানের পাশেই পল্লীবিদ্যুতের সাব-অফিসে কর্মরত সাইদুল ইসলাম সিরাজ আসা-যাওয়ার সূত্রে ওই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
বাদীর দাবি, ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তাকে বিয়ে করবেন, এমন আশ্বাস দিয়ে সাইদুল ইসলাম একাধিকবার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। সর্বশেষ গত ১১ জুলাই রাতে সিরাজ তার দোকানে প্রবেশ করে ফের শারীরিক সম্পর্ক করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে সিরাজ বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। তারপর রোববার রাতে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই নারী সিরাজকে তার বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সহায়তায় সাইদুল ইসলাম মুক্ত হন। তবে সাইদুলকে মুক্ত করতে বড় ধরণের টাকা পয়সা লেনদেন হয়েছে বলে এলাকায় অভিযোগ ওঠে।
এদিকে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত লাইনম্যান মো. সাইদুল ইসলাম সিরাজ। তিনি জানান, একটি চক্র ওই নারীকে ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।
করফা বাজার পল্লীবিদ্যুৎ সাব-অফিসের কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা সিরাজকে একটি ঘরে আটকে রেখেছিল। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সমাধান হয়নি।
নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।