স্পোর্টস ডেক্স ।।
বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই ফুটবলের শ্রেষ্ঠ লড়াই। তবে ২০২৬ আসরে সেই উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন এক বিনোদনের অধ্যায়। প্রথমবারের মতো ফিফা ফাইনালের বিরতিতে আয়োজন করছে ‘সুপার বোল’ ধাঁচের হাফ-টাইম শো। আর এই আয়োজনকে ঘিরে যতটা আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তার চেয়েও বেশি কৌতূহল দেখা দিয়েছে, বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন?
৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি নতুন নিয়ম ও প্রযুক্তির ব্যবহার দেখা গেছে। তবে সবচেয়ে আলোচিত সংযোজন হচ্ছে ফাইনালের হাফ-টাইম শো। প্রায় ১১ মিনিটের এই আয়োজনে মঞ্চ মাতানোর কথা রয়েছে শাকিরা, জাস্টিন বিবার, ম্যাডোনা এবং জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের সদস্যদের।
তবে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, এই পারফরম্যান্সের জন্য শিল্পীরা কোনো নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। আয়োজকরা শুধু অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রয়োজনীয় প্রোডাকশন, মঞ্চ নির্মাণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং যাতায়াতসহ অন্যান্য লজিস্টিক ব্যয় বহন করবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আয়োজনটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সুপার বোল হাফ-টাইম শোর মডেল অনুসরণে করা হচ্ছে। সেখানে যেমন শিল্পীদের মূল আকর্ষণ থাকে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের সামনে নিজেদের তুলে ধরার সুযোগ, এখানেও একই বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এমন বৈশ্বিক মঞ্চে পারফর্ম করার পর শিল্পীদের গান স্ট্রিমিং, অ্যালবাম বিক্রি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ কারণেই অনেক তারকা আলাদা পারিশ্রমিক ছাড়াই এমন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগ্রহ দেখান। তবে মহড়ার সময় তাদের জন্য দৈনিক ভাতা বা স্টাইপেন্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়।
এর আগেও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে অনেক আন্তর্জাতিক শিল্পী নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক ছাড়াই পারফর্ম করেছেন। ফিফার মতে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে অংশ নেওয়া শিল্পীদের জন্য এটি অর্থের চেয়ে অনেক বড় প্রচারের সুযোগ।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল শুধু ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই নয়, বরং সংগীত ও বিনোদনের এক নতুন ইতিহাসও গড়তে যাচ্ছে। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি বিরতির এই বিশেষ আয়োজনও দর্শকদের জন্য হতে পারে স্মরণীয় এক অভিজ্ঞতা।