বৈঠকও নির্ধারিত রয়েছে। এমএমসি পোর্টসের সঙ্গে বন্দর ও লজিস্টিকস খাতে সহযোগিতা, এয়ার এশিয়ার সঙ্গে বিমান চলাচল ও পর্যটন খাত এবং পেট্রোনাসের সঙ্গে জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস খাতে বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো, বন্দর, বিমান পরিবহন এবং জ্বালানি খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হবে।
৪ দিনের সফর চীনে: জানা গেছে, ২২ জুন বিকালে মালয়েশিয়া সফর শেষে সরাসরি চীনের একটি উপকূলীয় বন্দরনগরী দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৩ জুন দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। পরে জলবায়ু এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনর্গঠন বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেবেন তিনি। ২৪ জুন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিশ্ব অর্থনীতি, বিনিয়োগ প্রবাহ, সবুজ অর্থনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু প্রাধান্য পাবে। একই দিনে অবকাঠামো ও শিল্প খাতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন এবং চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রেলপথ, সেতু, বিদ্যুৎ এবং শিল্পায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হবে।
২৫ জুন বেইজিংয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ ফোরামে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এতে শতাধিক বিনিয়োগকারী ও শিল্পপতির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এ সময় চেরি গ্রুপ, হান্ডা গ্রুপ এবং চায়নাটেক্স করপোরেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হবে। এসব অটোমোবাইল, শিল্প বিনিয়োগ এবং বস্ত্র খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। একই দিন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। বৈঠক শেষে প্রায় ১০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। অবকাঠামো, জ্বালানি, শিল্প পার্ক, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং অর্থায়নসংক্রান্ত বিষয়গুলো এসব সমঝোতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে। সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে ২৬ জুন। ওইদিন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বৈঠকে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় বাংলাদেশে চলমান ও সম্ভাব্য অবকাঠামো প্রকল্পে চীনা অর্থায়ন এবং অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি গভীর সমুদ্রবন্দর, রেল ও সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও উৎপাদন খাতে সহযোগিতা, চীনা শিল্পকারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তরের সম্ভাবনা, বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতা এবং বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়েও দুই নেতার মধ্যে মতবিনিময় হতে পারে।
সফরসূচি অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে দুদেশ সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা।
কূটনৈতিক মহলের মতে, মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।