নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
আজ ১৪ অক্টোবর সকাল সারে ১০ টায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি “বেলা” বরিশালের আয়োজনে “নদী রক্ষায় করণীয়’’ শীর্ষক আলোচনা সভা বরিশাল বিডিএস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেইন্ট বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর কবির এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মোঃ হাদিউজ্জামান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর সহকারী পরিচালক কাজী
সাইফুদ্দিন, বাপাউবোর সহকারী পরিচালক
মাহবুবুর রহমান, বিআইডব্লিউটিএ এর বন্দর নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক, মোঃ মামুনুর রহমান।অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এস
হাসানুল বান্না, লিগ্যাল কো-অর্ডিনেটর, ‘বেলা’, ঢাকা। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনাব লিংকন বায়েন, বিভাগীয়
সমন্বয়কারী, বেলা, বরিশাল। উন্মুক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে মূল্যবান মতামত ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন জনাব
এডভোকেট সুভাষ চন্দ্র দাস, জিয়াউল আহসান, মোঃ রফিকুল ইসলাম পান্না, মেহের আফরোজ মিতা, খোরশেদ আলম, হাসিনা
বেগম নীলা, সাংবাদিক এম জসীম উদ্দীন, কাজী মিজানুর রহমান, শুভংকর চক্রবর্তী, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কেএসএম মহিউদ্দীন
মানিক (বীরপ্রতীক) প্রমুখ। সভায় বক্তাগন বলেন, বরিশালের ইতিহাস-ঐতিহ্য, নগর সভ্যতা, ব্যবসা-বানিজ্য ও রূপ সৌন্দর্যের
প্রধান নিয়ামক হচ্ছে এ অঞ্চলের নদ-নদী। বরিশালের কীর্তনখোলা ও পিরোজপুরের পাশদিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী বলেশ্বর
নদী দু’টির গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ এই দুটি নদী দখল-দূষণ ও ভাঙ্গনের কবলে পড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে বিশেষ করে
পিরোজপুরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের খর¯্রােতা বলেশ্বর নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বক্তারা বলেন, এই নদী
দু’টির ভাঙ্গন, দখল-দূষণ বন্ধে এখনই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বিস্তর গবেষণার প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর উদাসীনতাই
গুরুত্বপূর্ণ এই নদী দু’টি সংকটাপর্ণ হওয়ার মূল কারণ। তাই এসব নদী রক্ষায় এ্যাকশন প্লান করে গবেষণার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট
সবাইকে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নদীর সীমানা চিহ্নিত করার পাশাপাশি দখল-দূষণ মুক্ত করতে হবে এবং
দীর্ঘস্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তারা আরও বলেন, সমাজ ধ্বংস হয় ভাল মানুষের নীরবতায়, অসৎ
লোকের কার্যকলাপে নয়। তাই সচেতন নাগরিকদেরও এ বিষয়ে জেগে উঠতে হবে। প্রশাসনকে চাপসৃষ্টি করতে হবে।
স্রোতস্বিনী কীর্তনখোলা ও বলেশ্বরের মতো উন্মুক্ত এ নদীর তীরে এখন গড়ে উঠেছে বহু অবৈধ স্থাপনা, শিল্প ও বর্জ্য দূষণ
ক্রমাগত চলছেই। পরিকল্পিত খননের অভাবে এখন নৌ যোগাযোগ সংকটে পড়েছে। দিনে দিনে বেড়েই চলেছে নদী ভাঙ্গন।
তাই পূর্বের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সম্মিলিত ভাবে কাজ করে যেতে হবে’’। বিশেষ অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন-
কীর্তনখোলা ও বলেশ্বর নদীর দখল-দূষণ ও ভাঙ্গন রোধে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে।
সি.এস ম্যাপ অনুযায়ী নদীর সীমানা চিহ্নিতকরনসহ তালিকাভূক্ত দখলদার সহ সকল অবৈধ স্থাপনা অচিরেই উচ্ছেদ করার
পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে। নদী রক্ষায় ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প অপরিহার্য। ইহা অত্যন্ত ব্যয় বহুল। আমাদের আর্থিক
সীমাবদ্ধতা রয়েছে। “আমরা বসে নেই। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। নদী রক্ষায় বেসিন ভিত্তিক গবেষণা
দরকার। শুধু কথা নয়, কাজ দিয়ে সেটা প্রমান রাখতে হবে। তাই আমরা সবাই মিলে কীর্তনখোলাসহ বরিশালের নদীগুলো
রক্ষায় কাজ করে যেতে চাই’’। সভাপতি তার মূল্যবান বক্তব্যে বলেন- মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত পানির প্রয়োজন। অথচ
এই পানি ব্যবস্থাপনায় আমরা উদাসীন। কীর্তনখোলাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে বরিশালের ব্যবসা-বানিজ্য, নগর সভ্যতা,
নৌ-যোগাযোগ ও কৃষিকার্যক্রম। অথচ এই নদীর এখন বেহাল অবস্থা। সুতরাং এসব নদী রক্ষায় এখনই আমাদের সোচ্চার ও
আরো আন্তরিক হতে হবে।