নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
শাহিন শিক্ষা পরিবার কোচিং সেন্টার নির্যাতনের একটা টর্চার সেল। প্রায় সময় এখানে ছাত্র-ছাত্রীদের অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অনেক ছাত্রছাত্রী বের হয়ে আসে। কোন অভিভাবক এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো তাদের নির্যাতনে শিকার হতে হয়। এদের বিরুদ্ধে রয়েছে পাহাড় সমান অভিযোগ। শাহিন শিক্ষা পরিবার কোচিং সেন্টার নির্যাতনের কথা প্রায়ই পত্রিকার শিরোনামে উঠে আসছে। এই কোচিং সেন্টার কতৃপক্ষের মিষ্টি ভাষা আর ব্যবহারের কারনে সব ধামাচাপা পরে যায়। আবারও ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় বরিশালে আলোড়ন সৃষ্টি করছে শাহিন শিক্ষা পরিবার কোচিং সেন্টার।
জানা যায়, এবার শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে শাহিন শিক্ষা পরিবার কোচিং সেন্টার ত্যাগ করেছে এক ছাত্রী। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই কোচিং সেন্টারের শিক্ষিকা ফারজানা বিভিন্ন কারণে সিমরান জাহান নামের এক ছাত্রীকে অপমানজনক মন্তব্য ও কঠোর আচরণের মাধ্যমে মানসিক চাপে রাখতেন। সম্প্রতি একটি ঘটনার জেরে পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে ছাত্রী কোচিং সেন্টার ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (১৪ জুন) রাত ১০ টার সময় সিমরান কোচিং সেন্টার থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু এ বিষয়ে কিছুই জানতো না তার পরিবার। রাত ১১ টার সময় তাকে রাস্তায় বসে কান্নাকাটি করতে দেখে বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক অলিদ কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন- তিনি শাহিন শিক্ষা পরিবারের একজন ছাত্রী, শিক্ষিকার অমানবিক আচরণের কারণে রাগ করে তিনি কোচিং সেন্টার থেকে বের হয়ে গেছেন। পরবর্তীতে রাত ১২ টায় কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করলে বিষয়টি তার পরিবার জানতে পারেন।
সিমরানের পরিবারের দাবি, শিক্ষিকার আচরণের কারণে সিমরান মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং পড়াশোনার প্রতিও আগ্রহ হারাতে শুরু করেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারজানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলার মধ্যে রাখতে নিয়মিত দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। কোন ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
কোচিং সেন্টারের পরিচালক মঞ্চুরি রহমান বলেন, আমাদের কোচিং সেন্টারে নির্যাতনের কোন প্রশ্নই আসে না। তবুও যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যেও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারগুলোতে শিক্ষার্থীদের প্রতি ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আল মামুন বলেন, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।